Type Here to Get Search Results !

WB Class 6 Geography Suggestion - ষষ্ঠ শ্রেণি - আমাদের পৃথিবী - পঞ্চম অধ্যায় - জল স্থল বাতাস - Class 6 Geography Notes

 ষষ্ঠ শ্রেণি

আমাদের পৃথিবী
পঞ্চম অধ্যায়
জল স্থল বাতাস



প্রশ্ন: বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর গায়ে চাঁদের মতো লেগে থাকা বায়ুস্তরই হল বায়ুমণ্ডল।

প্রশ্ন: বায়ুমণ্ডলের শ্রেণীবিভাগ করো।
উত্তর: (১) ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরে 16 কিমি পর্যন্ত যে বায়ু স্তর আছে তার নাম ট্রপোস্ফিয়ার। এই বায়ুস্তরে ধুলোর কনা, জলকণা থাকে বলে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় আবহাওয়ার রকমফের দেখা যায়। ট্রপোস্ফিয়ার স্তরের যত উঁচুতে ওঠা যায় তাপমাত্রা কত কমতে থাকে। প্রতি 1000 মিটার উচ্চতা 6.4°সে. হারে তাপমাত্রা কমে।

 (২) ট্রপোস্ফিয়ারের ওপরে, ভূপৃষ্ঠ থেকে 50 কিমি পর্যন্ত বায়ুস্তর হল স্ট্যাটোস্ফিয়ার। এখানে বাতাসের পরিমাণ কম, ধুলোর কনা, জলকণা নেই; তাই মেঘ, বৃষ্টি কিছুই হয় না। জেট প্লেন গুলো এই শান্ত এ স্তর দিয়ে চলাচল করে। এখানে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। এই স্তরে ২০-২৫ কিমি উচ্চতা ও ওজন গ্যাসের একটাই স্তর আছে। সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি থেকে আমাদের রক্ষা করে এই স্তর।

(৩) ট্রপোস্ফিয়ারের ওপরে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 80 কিমি পর্যন্ত মেসোস্ফিয়ার। এই স্তরে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কমতে থাকে। এর পর প্রায় 300 কিমি পর্যন্ত থার্মোস্ফিয়ার। এখানে বাতাস প্রায় নেই। তাই আকাশকে কালো দেখায়। এই স্তরের আরেক নাম আয়নোস্ফিয়ার। অতিবেগুনি রশ্মির কারণে এই স্তরের তাপমাত্রা 200°সে এ পৌঁছে যায়। এই স্তর থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় পৃথিবীতে ফিরে আসে, তাই আমরা রেডিও শুনতে পাই।

(৪) থার্মোস্ফিয়ার এর পরে আছে এক্সোস্ফিয়ার। তারপরে আছে সীমাহীন মহাকাশ। কৃত্রিম উপগ্রহ, মহাকাশ স্টেশন এই স্তরে থাকে।

প্রশ্ন: বায়ুমণ্ডল না থাকলে কি হত?
উত্তর: (১) পৃথিবী কে ঘিরে বায়ুস্তর না থাকলে অন্যান্য গ্রহের মতোই পৃথিবীও প্রাণহীন হয়ে যেত। বাতাস ছাড়া উদ্ভিদ, প্রাণী কেউই কি বাঁচতে পারতো?
(২) দিনের বেলা সূর্যের তাপে পৃথিবী উত্তপ্ত হয় আর রাতের বেলায় ঐতাপ ধীরে ধীরে বেরিয়ে যায়। বায়ুমণ্ডল না থাকলে সূর্যকে স্তরের পর হঠাৎ ভীষণ ঠাণ্ডা আর সূর্যোদয়ের পর হঠাৎ প্রবল গরম হয়ে যেত পৃথিবী। বায়ুমণ্ডলের জন্যই পৃথিবীতে জীবন ধারণের অনুকূল তাপমাত্রা বজায় থাকে।
(৩) প্রতিদিন প্রায় 10 হাজার কোটি ছোট ছোট উল্কা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে। কিন্তু বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘষা লেগে জ্বলে ছাই হয়ে যায়। তাই পৃথিবীর কোন ক্ষতি হয় না।

প্রশ্ন: পৃথিবীর বিবর্তনের বিবরণ দাও।
উত্তর: মহাবিশ্বে অসংখ্য গ্রহ তারার মধ্যে সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা এই পৃথিবী আমাদের বাসভূমি। পৃথিবী কিন্তু চিরকাল এখনকার মতো ছিল না। প্রায় 460 কোটি বছর আগে সৃষ্টি সময়ে পৃথিবী ছিল একটা জ্বলন্ত গ্যাসীয় পিণ্ড।
জল, স্থল, বায়ুমণ্ডল কিছুই ছিল না। ক্রমে কোটি কোটি বছর ধরে তাপ বিকিরণ করে পৃথিবী ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে শুরু করে। এই সময় কিছু গ্যাস আর জলীয়বাষ্প পৃথিবীর আকর্ষণ এ পৃথিবীর চারিদিকে ভাসতে থাকে। পৃথিবীর বাইরের অংশ জমাট বেঁধে একটা কঠিন স্তর তৈরি করে। কিন্তু ভিতরের অংশ উত্তপ্ত অবস্থাতেই (২০০০° সে.-৪০০০°সে.) থেকে যায়।

প্রশ্ন: শিলামন্ডল কাকে বলে?
উত্তর: ভূত্বক এর চার ভাগের এক ভাগ স্থল। স্থলভাগ মূলত শীলা আর মাটি দিয়ে তৈরি। তাই একে শিলামন্ডল বলা হয়।

প্রশ্ন: বারিমন্ডল কাকে বলে?
উত্তর: সৃষ্টির বহু কোটি বছর পর পৃথিবীর বাইরে বেশ ঠাণ্ডা হয়ে আসে। তখন আকাশের রাশি রাশি জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হলে অবিশ্রান্ত বৃষ্টির মতো পৃথিবীতে নেমে আসে। হাজার হাজার বছর ধরে সেই প্রবল বৃষ্টির জলে পৃথিবীর নিচে জায়গা গুলো ভরাট হয়ে সাগর-মহাসাগর তৈরি হয়। পৃথিবীর এই বিশাল জলা ভান্ডারের নাম বারিমন্ডল।

প্রশ্ন: নীল গ্রহ কাকে বলা হয়?
উত্তর: পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগই জল। তাই মহাকাশ থেকে পৃথিবী কে ঝলমলে নীল গোলকের মতো দেখায়। সৌরজগতের আর কোন গ্রহে এত বিশাল পরিমাণ জল পাওয়া যায় না। তাই পৃথিবীকে নীল গ্রহ বলা হয়।

প্রশ্ন: আমাদের রোজকার জীবনে জল কি কি কাজে লাগে?
উত্তর: জলই জীবন। জল ছাড়া পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব নয়। নদী, সমুদ্র, জলাশয় মাছ ও অন্যান্য জীবের আবাসস্থল। সমুদ্রের জলে কিছু দরকারি খনিজ পদার্থ পাওয়া যায়। সমুদ্র পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশ গুলোকে জলপথে যুক্ত করেছে। জলচক্র পৃথিবীর তাপমাত্রা কে জীবনধারণের অনুকুলের রাখে।

প্রশ্ন: জলচক্র কাকে বলে?
উত্তর: জল কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি আবার কখনো কঠিন বরফ, তুষার রূপে আকাশ আর পৃথিবীর মধ্যে ক্রমাগত আবর্তিত হয়ে চলছে। জলের এই চক্রাকার আবর্তন হলেও জলচক্র।

প্রশ্ন: প্যানজিয়া কি?
উত্তর: প্রায় ২২.৫ কোটি বছর আগে পৃথিবীর মানচিত্র টা এখনকার মতো ছিল না। একটাই বিরাট অখন্ড স্থল ভাগ বা মহা-মহাদেশ ছিলো যার নাম প্যানজিয়া।

প্রশ্ন: টীকা লেখ :-উত্তর আমেরিকা
উত্তর: তৃতীয় বৃহত্তম মহাদেশ।
প্রধান পর্বতশ্রেণী-রকি।
প্রধান প্রধান নদী-মিসিসিপি-মিসৌরি, কলোরাডো।
২৩টি দেশ আছে।

প্রশ্ন: টীকা লেখ:-ইউরোপ
উত্তর: ষষ্ঠ বৃহত্তম মহাদেশ।
ইউরোপ এবং এশিয়া মহাদেশকে একত্রে ইউরেশিয়া বলে।
প্রধান পর্বতশ্রেণী-আল্পস।
প্রধান প্রধান নদী-ভলগা, দানিয়ুব।
৪৫ টি দেশ আছে।

প্রশ্ন: টীকা লেখ:-দক্ষিণ আমেরিকা
উত্তর: চতুর্থ বৃহত্তম মহাদেশ।
প্রধান প্রধান নদী-আমাজন, লা প্লাটা।
শুষ্কতম শীতল মরুভূমি-প্যাটাগোনিয়া।
প্রধান পর্বতশ্রেণী-আন্দিজ।
13 টি দেশ আছে।

প্রশ্ন: টীকা লেখ:-এশিয়া
উত্তর: বৃহত্তম, জনবহুল মহাদেশ।
প্রধান পর্বতশ্রেণী-হিমালয়।
প্রধান নদী-ইয়াংসি, ওব।
44 টি দেশ আছে।

প্রশ্ন: টীকা লেখ:-  ওশিয়ানিয়া
উত্তর: ক্ষুদ্রতম মহাদেশ।
দক্ষিণ গোলার্ধে চারিদিক সমুদ্র বেষ্টিত।
অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং অনেকগুলো দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত।
প্রধান পর্বতশ্রেণী-গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ।
প্রধান প্রধান নদী-মারে ডার্লিং ওয়াইকাটো।

প্রশ্ন: টীকা লেখ:- আফ্রিকা
উত্তর: দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ।
বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি সাহারা।
প্রধান প্রধান নদী-নীলনদ, জাম্বেজি।
প্রধান পর্বতশ্রেণী-আটলাস
৫৪ টা দেশ আছে।

প্রশ্ন: টীকা লেখ:-আন্টার্কটিকা
উত্তর: দক্ষিণ মেরু কে ঘিরে আছে পঞ্চম বৃহত্তম মহাদেশ।

প্রশ্ন: বিশ্ব উষ্ণায়ন কাকে বলে?
উত্তর: যানবাহন এবং শিল্প কারখানা থেকে বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে মিশছে। এই গাছগুলো পৃথিবীর চারিদিকে এমন এক আবহ তৈরি করে যাতে পৃথিবী থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফিরে যাওয়া তার আটকে পড়ে। দিনের পর দিন এই পৃথিবীর উষ্ণতা কে বাড়িয়ে দিচ্ছে। একে বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে।

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

LightBlog

Below Post Ad

LightBlog

gad

close