Type Here to Get Search Results !

WB Class 6 Geography Suggestion - ষষ্ঠ শ্রেণি - আমাদের পৃথিবী - সপ্তম অধ্যায় - আবহাওয়া ও জলবায়ু - Class 6 Geography Notes

 ষষ্ঠ শ্রেণি

আমাদের পৃথিবী
সপ্তম অধ্যায়
আবহাওয়া ও জলবায়ু




প্রশ্ন: আবহাওয়া কাকে বলে?
উত্তর: আবহাওয়া বলতে কোন একটি নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুর উষ্ণতা, বায়ুর আদ্রতা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, মেঘাচ্ছন্নতা অবস্থাকে বোঝায়। দিনের বিভিন্ন সময়ে আবহাওয়া বদলাতে পারে। আবার কখনো অল্প সময়ের মধ্যে ও আবহাওয়া বদলে যেতে পারে।

প্রশ্ন: কোন জায়গায় সারা বছর ধরে ঠান্ডা থাকে কেন?
উত্তর: কোন এক জায়গায় বায়ুমণ্ডলের একদিনের অবস্থা দৈনিক আবহাওয়া কে বোঝায়। তেমনি সেই জায়গার আবহাওয়ার হিসাব রাখে পরপর সাতদিনের বা এক সপ্তাহের আবহাওয়া সম্বন্ধে জানা যায়। আবার সপ্তাহের আবহাওয়া থেকে ৩০ দিন বা এক মাস এবং ১২ মাসের আবহাওয়ার পক্ষ থেকে ওই জায়গার সারা বছরের আবহাওয়া সম্বন্ধে একটা সাধারণ ধারণা পাওয়া যায়।

প্রশ্ন: ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু কাকে বলে?
উত্তর: লক্ষ্য করে দেখো আমাদের রাজ্যে 12 মাসের মধ্যে সাত থেকে আট মাস এই উষ্ণ থাকে। আরে আট মাসের মধ্যে তিন থেকে চার মাস বৃষ্টি হয়। সাধারণভাবে বলা যায় পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র ধরনের। আমাদের দেশের এই বিশেষ ধরনের উষ্ণ আদ্র জলবায়ু হলো ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু।

প্রশ্ন: জলবায়ু কাকে বলে?
উত্তর: কোন অঞ্চলের প্রায় 30 থেকে 35 বছরের আবহাওয়ার অবস্থা হলো ওই অঞ্চলের জলবায়ু ‌ কোন অঞ্চলের জলবায়ু বছরের পর বছর প্রায় একই রকম থাকে। যেমন পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমী প্রকৃতির।

প্রশ্ন: আগত সৌর বিকিরণ কি?
উত্তর: সূর্য রশ্মির 200 কোটি ভাগের এক ভাগ মাত্র পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়। একে বলা হয় আগত সৌর বিকিরণ।

প্রশ্ন: কার্যকারী সৌর বিকিরণ কি?
উত্তর: আগত সৌর বিকিরণকে 100% ধরলে, তার মাত্র 51 শতাংশ ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। তাই একে বলে কার্যকারী সৌর বিকিরণ।

প্রশ্ন: অ্যালবেডো কি?
উত্তর: বাকি 49 শতাংশের মধ্যে 35 শতাংশ মহাশূন্যে ফিরে যায় একে বলে অ্যালবেডো।

প্রশ্ন: পার্থিব বিকিরণ কি?
উত্তর: বাকি 14 শতাংশ বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন গ্যাস, জলীয় বাষ্প, ধূলিকণা দ্বারা শোষিত হয়। যে 51% তাপ পৃথিবীপৃষ্ঠে এসে পৌঁছায়, তার প্রায় পুরোটাই বিকৃত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়। একে পার্থিব বিকিরণ বলে।

প্রশ্ন: বিকিরণ কি?
উত্তর: শীতকালে আগুন জ্বালিয়ে আগুন এর চারপাশে বসে কয়েকজন মানুষ গা গরম করছে-আগুন থেকে বিকিরিত সরাসরি মানুষের দেহ কে উত্তপ্ত করছে। এই ভাবেই সূর্য থেকে আসা তাপ সরাসরি ভূপৃষ্ঠ ও ভূপৃষ্ঠের গাছপালা সবকিছু কে উত্তপ্ত করে। এইটা আবার ভূপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমন্ডলের বিকিরিত হয়। এই পদ্ধতি হলো বিকিরণ।

প্রশ্ন: পরিবহন কাকে বলে?
উত্তর: মোমবাতির ওপর একটা স্টিলের চামচ কিছুক্ষণ ধরে রাখলে প্রথমে গোলাকার ও পরে দন্ডাকার অংশটা গরম হয়ে ওঠে। তাপ চামচের গোলাকার অংশ থেকে দন্ডাকার অংশ ও আঙ্গুলের পরিবাহিত হয়। ফলে আঙ্গুলে ছেকা লাগে। তাপের এইভাবে পরিবাহিত হওয়ার পদ্ধতি হলো পরিবহন।

প্রশ্ন: পরিচলন কাকে বলে?
উত্তর: সূর্য থেকে আসা তা পেয়ে পৃথিবী পৃষ্ঠের গায়ে লেগে থাকা সবচেয়ে নিচের স্তর প্রথমেই উত্তপ্ত হয়।
এই উষ্ণ বায়ু হালকা হয়ে উপরে ওঠে আর উপরের শীতল বায়ু নিচে নামে। এই শীতল বায়ু পর্যায় ক্রমে গরম হয়ে উপরের দিকে উঠে যায়। এইভাবে বায়ুর পরিচলন স্রোত এর মাধ্যমে বিস্তীর্ণ এলাকার বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়। এই পদ্ধতি হলো পরিচলন।

প্রশ্ন: দিন ও রাতের তাপমাত্রা পার্থক্য লেখ।
উত্তর: কোন স্থানের একদিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য হল সেই স্থানের দৈনিক উষ্ণতার প্রসর বা পার্থক্য। আবার কোন স্থানের শীতলতম উষ্ণতম মাসের তাপমাত্রার পার্থক্য হল গড় বার্ষিক উষ্ণতার প্রসর। দৈনিক উষ্ণতার প্রসর বেশি হলে, দিনের বেলা ভীষণ গরম আর রাতের বেলা প্রচন্ড ঠান্ডা হয়। আবার বার্ষিক উষ্ণতার প্রসর বেশি হলে গরমের সময় ভীষণ গরম, শীতের সময় প্রবল ঠান্ডা হয়।

প্রশ্ন: বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা মাপার জন্য কি ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: থার্মোমিটার।

প্রশ্ন: আর্দ্রতা কি?
উত্তর: নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প থাকে, সেটা ওই বায়ুর আর্দ্রতা।

প্রশ্ন: বায়ুর আর্দ্রতা মাপা হয় কোন যন্ত্রের সাহায্যে?
উত্তর: হাইগ্রোমিটার।

প্রশ্ন: বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্রের নাম কি?
উত্তর: ফোর্টিন ব্যারোমিটার।

প্রশ্ন: বায়ু প্রবাহের দিক মাপা হয় কী দিয়ে?
উত্তর: বাত পতাকা।

প্রশ্ন: বায়ুর গতিবেগ মাপা হয় কোন যন্ত্র দিয়ে?
উত্তর: অ্যানিমোমিটার।

প্রশ্ন: ঘনীভবন কাকে বলে?
উত্তর: জলীয় বাষ্প যুক্ত বাতাস হালকা বলে উপরের দিকে উঠে যায়। উপরের বায়ুর উষ্ণতা ও চাপে দুইই কম থাকায় জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে ছোট ছোট জল কণায় পরিণত হয়। একে ঘনীভবন বলে।

প্রশ্ন: বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাপার যন্ত্রের নাম কি?
উত্তর: রেনগজ।

নিচের প্রশ্নগুলি শূন্যস্থান পূরণ করো:-

প্রশ্ন: 30 থেকে 35 বছরের গড় আবহাওয়া কে বলে______।
উত্তর: জলবায়ু

প্রশ্ন: বায়ুমণ্ডলের যে অবস্থা দ্রুত বদলে যায় তাকে বলে_____।
উত্তর: আবহাওয়া

প্রশ্ন: বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্রের নাম______।
উত্তর: রেনগজ

প্রশ্ন: সূর্যরশ্মির যে অংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল কে উত্তর না করে সরাসরি মহাশূন্যে ফিরে যায় তাকে বলে_____।
উত্তর: অ্যালবেডো

প্রশ্ন: আকাশে মেঘের পরিমাণের পরিমাপ হলো____।
উত্তর: মেঘাচ্ছন্নতা

প্রশ্ন: বায়ুর তাপমাত্রা পৃথিবীর সব জায়গাই এক রকম হয় না কেন?
উত্তর: পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষপথের সাথে সাড়ে 66 ডিগ্রী কোণে হেলে থাকে। গরমকালে ভূপৃষ্ঠের উপর সূর্য রশ্মি প্রায় সোজা বা লম্বাভাবে পড়ে। ফলে উষ্ণতা বেশি হয়। শীতকালে সূর্য রশ্মি ভূপৃষ্ঠের উপর তীর্যকভাবে পড়ায় উষ্ণতা কমে যায়। সূর্য রশ্মি পৃথিবীপৃষ্ঠের সাথে যে কোন তৈরি করে সেটাই হলো সূর্য রশ্মির পতন কোন। পৃথিবীর যে অংশে সূর্যের তাপ লম্বভাবে পরে সেখানে বেশি গরম, আর যেখানে তীর্যকভাবে পরে সেখানে ততটা গরম হয়না। আবার যেখানে বেশি তীর্যকভাবে পরে সেখানে সারাবছর খুব ঠান্ডা থাকে।
    ভূপৃষ্ঠ সূর্যের তাপ শোষণ করে উত্তপ্ত হয়। ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে। প্রতি 165 মি উঁচুতে 1 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড করে অথবা প্রতি 1000 মি উষ্ণতার 6.5°সে. হারে তাপমাত্রা কমে যায়। যে স্থান সমুদ্রের যত কাছে অবস্থিত সেখানে তাপমাত্রার প্রসর তত কম হয়। অর্থাৎ জলবায়ু সমভাবাপন্ন প্রাকৃতিক হয়।

প্রশ্ন: সমোষ্ণ রেখা কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর মানচিত্রে সমান গড় উষ্ণতা যুক্ত স্থান গুলো কে যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় তাকে সমোষ্ণ রেখা বলে।

প্রশ্ন: পৃথিবীর তাপমন্ডল কয় প্রকার ও কি কি?
উত্তর: নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে দুই মেরুর দিকে তাপের পরিমাণ ক্রমশ কমে। কারণ হলো সূর্য রশ্মির পতনকোণ এর তফাৎ। সূর্য রশ্মির পতনকোণ এর ভিত্তিতে পৃথিবীতে তিনটি তাপমন্ডল বা অঞ্চলে ভাগ করা হয়।
(১) উষ্ণ মন্ডল-নিরক্ষীয় রেখার উভয়দিকে কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখার মাঝের অঞ্চল হল উষ্ণ মন্ডল। সূর্য রশ্মির সারাবছর লম্বভাবে পড়ে‌। পৃথিবীপৃষ্ঠ সবথেকে বেশি উত্তপ্ত হয়।
(২) নাতিশীতোষ্ণ মন্ডল-কর্কটক্রান্তি রেখা থেকে সুমেরু বৃত্ত রেখা এবং মকর ক্রান্তি রেখা থেকে কুমেরু বৃত্ত রেখার মাঝের অঞ্চল হল নাতিশীতোষ্ণ মন্ডল। এখানে সূর্য রশ্মির তীর্যকভাবে পড়ায় এই অঞ্চল উষ্ণমন্ডল এর তুলনায় কম উত্তপ্ত হয়।
(৩) হিম মন্ডল-সুমেরু বৃত্ত থেকে উত্তর মেরু এবং কুমেরু বৃত্ত থেকে দক্ষিণ মেরুর মাঝের অঞ্চল হল হিম মন্ডল। সূর্য রশ্মি সারাবছর বেশি তীর্যকভাবে পড়ায় এই অঞ্চল সবচেয়ে কম উত্তপ্ত হয়। সারা বছর ধরে বেশ ঠান্ডা থাকে।

প্রশ্ন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর পার্থক্য লেখ।
উত্তর: (১) আবহাওয়া কোন নির্দিষ্ট স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানের অবস্থা, এবং জলবায়ুর হল কোন অঞ্চলের 30-35 বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
(২) আবহাওয়া প্রতিদিন এমনকি প্রতিমুহূর্তে বদলায়, এবং জলবায়ু প্রতিদিন বদলায় না।
(৩) আবহাওয়া স্বল্প পরিসরে পরিবর্তিত হয়, এবং জলবায়ু বিস্তৃত অঞ্চল ভেদে পরিবর্তিত হয়।


Tags

Post a Comment

1 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
  1. অ্যালবেডো এর বাংলা অর্থ কি?

    ReplyDelete

Top Post Ad

LightBlog

Below Post Ad

LightBlog

gad

close