Type Here to Get Search Results !

WB Class 6 Geography Suggestion - ষষ্ঠ শ্রেণি - আমাদের পৃথিবী - দশম অধ্যায় - আমাদের দেশ ভারত - Class 6 Geography Notes Part 4

 ষষ্ঠ শ্রেণি

আমাদের পৃথিবী
দশম অধ্যায়
আমাদের দেশ ভারত
পার্ট ৪


প্রশ্ন: মাটি সৃষ্টি হয় কিভাবে?
উত্তর: জলবায়ু, আদি শিলা, জৈব পদার্থ, ভূ প্রকৃতি অসময়ের উপর নির্ভর করে মাটি তৈরি হয়। মাটি তৈরিতে অনেক সময় লাগে। যত বেশি সময় ধরে তৈরি হয়, মাটি তত পরিণত হয়।

প্রশ্ন: পলি মাটি কাকে বলে?
উত্তর: মূলত নদীবাহিত পলি থেকে এই মাটি সৃষ্টি হয়। পলি মাটি উর্বর হওয়ায় এই মাটিতে প্রায় সবরকম ফসল চাষ করা যায়। নদী প্লাবনভূমি, বদ্বীপ অঞ্চলে পলি মাটি দেখা যায়। ভারতে উর্বর নবীন পলিমাটি খাবার আর অনুভব প্রাচীন পলিমাটি ভাঙড় নামে পরিচিত। উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা অসমের একটা বড় অংশের পলি মাটি দেখা যায়।

প্রশ্ন: কালো মাটি কি?
উত্তর: ব্যস্ত ছিলা গঠিত অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায়। এর জলধারণ ক্ষমতা খুব বেশি। এই মাটি যথেষ্ট উর্বর। তুলো, চিনা বাদাম চাষের জন্য এই মাটির আদর্শ। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশের বেশিরভাগ অংশ এবং পর নাটক ও অন্ধ্র প্রদেশের কিছু অংশে এই মাটি দেখা যায়।

প্রশ্ন: লাল মাটি কাকে বলে?
উত্তর: রূপান্তরিত শিলা বহু বছর ধরে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে এই মাটি সৃষ্টি হয়। লোহার পরিমাণ বেশি থাকে বোনের এর রং লাল। এই মাটিতে জলোচ্ছ্বাস ও স্যার এর সাহায্যে চাষ আবাদ করা যায়। রাগি, বাদাম, তামাক, ধান, ছোলার চাষ হয় এই মাটিতে। ওড়িশা, ছত্রিশগড়, ঝাড়খন্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, কেরালা, মনিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাংশে এই মাটি দেখা যায়।

প্রশ্ন: ল্যাটেরাইট মাটি কাকে বলে?
উত্তর: খুব বেশি উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে যেখানে পর্যায়ক্রমে শুষ্ক ও আর্দ্র ঋতু দেখা যায় সেখানে এই মাটি সৃষ্টি হয়। লৌহ অক্সাইড এর উপস্থিতির জন্য এই মাটির রং ইটের মতো গাঢ় লাল। এই মাটি অনুর্বর। চিনেবাদাম, জোয়ার, বাজরা, রাগি এই মাটিতে চাষ হয়। ছোটনাগপুর মালভূমি, পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট পর্বতের কিছু অংশে এবং মেঘালয় মালভূমির বেশিরভাগ অংশের ল্যাটেরাইট মাটি দেখা যায়।

প্রশ্ন: মরু অঞ্চলের মাটি বলতে কী বোঝো?
উত্তর: খুব কম বৃষ্টিপাত ও অত্যাধিক উষ্ণতা যুক্ত অঞ্চলে এই মাটি সৃষ্টি হয়। এই মাটি মোটা দান ও ছিদ্রযুক্ত। জল ধারণ ক্ষমতা কম এবং অনুর্বর। অত্যাধিক বাষ্পীভবনের কারণে এই অঞ্চলের মাটিতে লবণের পরিমাণ বেশি। প্রধানত জোয়ার, বাজরা, রাগী চাষ করা হয়। রাজস্থানের মরু অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায়।

প্রশ্ন: পার্বত্য অঞ্চলের মাটি বলতে কী বোঝো?
উত্তর: প্রধানত আর্দ্র নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতে এরকম মাটি সৃষ্টি হয়। এতে বেশি পরিমাণে জৈব পদার্থ থাকে। চা, কফি বিভিন্ন ধরনের মশলা, এই মাটিতে খুব ভালো চাষ হয়। হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল, পশ্চিমঘাট পর্বত এবং দক্ষিণাঞ্চলের নীলগিরি পর্বত্য অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায়।

প্রশ্ন: মাটি ক্ষয়ের কারণ লেখ।
উত্তর: গাছের শিকর মাটিকে খুব শক্ত করে ধরে রাখে। তবে আজকাল নানা কারণে অনেক গাছ কাটা হচ্ছে। তাই বৃষ্টির সময় উপরের স্তরে মাটি দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া খনিজ সম্পদ উত্তোলনের সময় বাদ বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার সময় প্রচুর মাটি ক্ষয় হয়।বেশি পরিমাণে পশু পালনের ফলে ও পরোক্ষভাবে মাটি ক্ষয় হয় ‌

প্রশ্ন: মাটি সংরক্ষণের উপায় গুলি উল্লেখ করো।
উত্তর: মাটির উপরের স্তরে নানা জৈব পদার্থ থাকে। এই স্তর ক্ষয় হলে মাটি সাধারণত অনুর্বর হয়ে পড়ে। মাটি আমাদের নানা প্রয়োজনে লাগে। উদ্ভিদের জন্মানো চাষবাস, ঘরবাড়ি নির্মাণ, বিভিন্ন জীবের আবাসস্থল প্রভৃতি কারণে মাটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই মাটি সংরক্ষণ করা দরকার।
(১) পশুচারণ নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় করা উচিত।
(২) মাটি বেশি গভীরে খনিজ সম্পদ আহরণ বন্ধ করা উচিত।
(৩) পাহাড়ের ঢালু অংশে ধাপ কেটে চাষ করা উচিত।
(৪) গাছ কাটা বন্ধ করা উচিত।
(৫) অনেক বেশি সংখ্যায় চারা গাছ লাগানো উচিত।
(৬) বেশি ধার যুক্ত অংশে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, নির্মাণ করা উচিত নয়।
Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

LightBlog

Below Post Ad

LightBlog

gad

close